News Section:

বানিয়াচঙ্গের রত্না নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরছে প্রভাবশালী মহল

মৎস্য কর্মকর্তা বললেন নদীতে বাঁধ দেওয়া বানিয়াচঙ্গের রত্না নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌ-চলাচল। নদী তীরবর্তী রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে কাগজে কলমে লিজনামা থাকলেও এর নেপথ্যে রয়েছেন সরকার দলীয় এক প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ সম্প্রতি ওই বাঁধ অপসারণে অভিযান চালালে প্রভাবশালী ওই জনপ্রতিনিধির কারণে বাঁধ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, রতœা নদীটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনার শাখা নদীতে মিলিত হয়েছে। ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই নদীকে চার ভাগে ভাগ করেছে প্রশাসন। ভাটির ৩ অংশকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। উজানের রত্না -১ অংশকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে ৩ বছর মেয়াদে ইজারা দেয়া হয়েছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে।সরজমিনে দেখা গেছে, বানিয়াচঙ্গ-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের রতœা সেতুর উত্তর-পূর্বাংশ থেকে রত্না -১ জলমহাল শুরু হয়েছে। সেতুর ১শ’ গজ দূরে পরপর দু’টি বাঁধ দিয়েছেন ইজারা গ্রহীতা রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশ পুঁতে বাঁশের পাটির সঙ্গে জাল পাতা হয়েছে।ওই বাঁধের কারণে নদীতে সব ধরণের নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি নদীর অন্য ৩ অংশের মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ বিচরণ করতে পারছে না। মাছের প্রজনন ও চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। ইজারার চুক্তিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৪১৮ থেকে ১৪২০ বাংলা সন পর্যন্ত ইজারার মেয়াদ। ১৪১৮ সন পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা যাবে না। কিন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে নদীর ছোট আকারের মাছ ধরা হচ্ছে।রূপালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাধাকৃষ্ণ দাস এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে সরকারি নিয়মেই মাছ ধরা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ উদ্দিন আহমদ বলেন, যে কোনো নদীতে বাঁধ দেওয়া অবৈধ। এতে মাছ ও পানিতে বসবাসকারী জীববৈচিত্র্যের সমস্যা হয়। এছাড়া বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা জলমহাল নীতিমালার বহির্ভূত।জেলা প্রশাসক মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ হলো আমি এই জেলায় যোগদান করেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।