News Section:

বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ঝিংরীতে বাল্বস্টেশনে অবটেইক প্রভিশন থাকছে

প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা থেকে ঢাকার ধনুয়া পর্যন্ত ১৩৭ কিঃমিঃ গ্যাসের গ্রীড লাইন নির্মাণ হচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড থেকে ঢাকার গাজীপুরের ধনুয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ১৩৭ কিলোমিটার গ্রীড পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। বিবিয়ানা-ধনুয়া গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন প্রজেক্ট বাস্তবায়নকালে বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন ঝিংরি পাড়ের বাল্বস্টেশন এবং কিশোরগঞ্জের নান্দুলার বাল্বস্টেশনে অবটেইক প্রভিশন রাখা হচ্ছে। ফলে জনচাহিদার প্রেক্ষিতে সরকার তাৎক্ষণিক সহজে নিকটস্থ পৌরসভা, জনবসতির গৃহস্থালী ও শিল্পতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে।
প্রকাশ, বিবিয়ানা ধনুয়া গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন প্রজেক্ট কার্যক্রমে সম্প্রতি অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে, তা নিরসনে পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বানিয়াচঙ্গ উপজেলা সদর এর ৪ ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে ২নং সদর ইউপি কার্যালয়ে ২৭ জানুয়ারি এক আলোচনা বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আগামী জুলাই এর মধ্যে প্রজেক্টের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন জিটিসিএল এর পক্ষে জিএমও পিডি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদ খান, ডিপিডি আশরাফ উদ্দিন, উপ-ব্যবস্থাপক কামাল হোসেইন। অপর পক্ষে বানিয়াচঙ্গ সদর দক্ষিণ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, ৩নং সদর দক্ষিণ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ২নং সদর উত্তর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া ও ১নং সদর উত্তর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান। সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ রয়েছে (১) গ্রিড লাইনের বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ রোডে ঝিংরি নদীর পাড়ে বাল্বস্টেশন নির্মাণকালে অবটেইক প্রভিশন থাকবে, যাতে পরবর্তীতে বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ গ্যাস সরবরাহ করা যায় এবং ডিজাইন ড্রইং সপ্তাহের মধ্যে চেয়ারম্যানদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। (২) গ্রীড লাইনের এলাইমেন্টে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকদের সনাক্তের জন্য চেয়ারম্যানদের পক্ষে স্থানীয় দু’জন সার্ভেয়ার জিটিসিএলকে সার্বক্ষনিক সহায়তা দিবে। (৩) নির্মাণ প্রকল্পে জিটিসিএল এর সাথে প্রশাসনকে সহায়তা দেবেন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন ও চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান এবং সরজমিনে প্রকল্প উন্নয়ন ও তরান্বিত করার লক্ষ্যে জিটিসিএলকে সহায়তা দেবেন চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া ও চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খান।
ইতোপূর্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঢাকায় গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে বিবিয়ানা-ধনুয়া প্রজেক্ট বাস্থবায়নে পেট্রোবাংলা জিটিসিএলকে দায়িত্ব প্রদান করে। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় ১ শত ৩৭ কিলোমিটার লম্বা ও ৩ ফুট ব্যাসের ১২ মিটার দৈর্ঘের সিসিকোটিং পাইপের ওজন প্রতিটি ১৩ টন ও ত্রিএলপি পাইপের ওজন ৬ টন। প্রতি কিলোমিটারে ৮০টি পাইপ লাগছে। এলাইনমেন্টের পাইপ লাইনে ২৭ ফুট ভুমি স্থায়ী অধিগ্রহন ও ৫০ ফুট এর ক্ষতিপুরণ দেয়া হচ্ছে। ৪ জেলার ১২ উপজেলার ১ শত ৮ মৌজার মধ্য দিয়ে বিবিয়ানা ধনুয়া প্রকল্পের কাজ চলছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা। কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিটামইন, নিকলী, করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ সদর, কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া। ময়মনসিংহ এর গফরগাও ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা। হবিগঞ্জে ৪১ কিলোমিটার এর মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলায় মৌজা ১২টি, বানিয়াচঙ্গে ৮টি ও আজমিরীগঞ্জে ১২টি মৌজা। কিশোরগঞ্জে ৬৯ কিলোমিটারে ৫১ টি মৌজা। ময়মনসিংহে ১১ কিলোমিটারে ৬ মৌজা ও গাজীপুরে ১৬ কিলোমিটারে ১০ মৌজার প্রকৃত মালিকরা ভূমির অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপুরণের টাকা জেলা প্রশাসনের এলএও বিভাগ থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। হবিগঞ্জের ১২ মৌজা হচ্ছে করিমপুর, এলিমপুর, প্রজাতপুর, উত্তর প্রতাপপুর, আগনা, মাধবপুর, বাখইর বাদে, শেরপুর, গুমগুমিয়া, পাঞ্জারাই, সর্দারপুর ও জালালপুর। বানিয়াচঙ্গের রয়েছে মাকালকান্দি, চমকপুর, হলিমপুর, মকা, বাগহাতাবাদে, খাগধর, নলাইপুর ও কর্নপুর। আজমিরীগঞ্জের রয়েছে মামদপুর, সলরী, ফতেপুর, বাসহাট্যা, শিবপাশা হাওর, পাটলীপাড়া, বেজ্জা, আটপাড়া, রামদেব পাশা, নোয়াগড়, মীর্জাপুর, ও গন্দবপুর।
এদিকে ১৩৭ কিলোমিটার বিবিয়ানা ধনুয়া গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপ লাইন প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দীপন গ্যাস, লিবরা গ্যাস সহ এক কুড়ি ঠিকাদার জড়িত। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তৈরী করে ঠিকাদাররা পাইপলাইন নির্মাণ করছে বলে প্রকাশ। গ্রীড লাইন প্রজেক্ট এর বিষয়ে জিটিসিএল এর জিএম ও পিডি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদ খান জানান, জাতীয় স্বার্থে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জনগণের সহায়তায় ইনশাল্লাহ জুনের মধ্যে অবশ্যই শেষ করতে হবে। পেট্রোবাংলার পক্ষে জিটিসিএল প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সর্বাত্মক ও শতঃস্ফুর্ত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। অপরদিকে বানিয়াচঙ্গ সদর দক্ষিণ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রীড লাইনের বাল্বস্টেশনে অবটেইক প্রভিশন থাকছে, ফলে বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জবাসী অদূর ভবিষ্যতে গ্যাস পাবেন। এজন্যই আমরা জিটিসিএলকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছি। জনচাহিদা সৃষ্টি হলে আমরাও চাপ প্রয়োগ করে যেভাবে বাল্বস্টেশনে অবটেইক প্রভিশন রাখতে বাধ্য করেছি তেমনি গৃহস্থালীতে গ্যাস পেতে আন্দোলন করে দাবি আদায় করব। প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বরত জিটিসিএল এর উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ কামাল হোসাইন বলেন, জুনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমেই সরকার ইচ্ছা করলে বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে।