News Section:

বর্তমান সরকারের মেয়াদে বানিয়াচং-নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়ন অনিশ্চিত

বর্তমান মহাজোট সরকারের মেয়াদে বানিয়াচং-নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ সরকারের মেয়াদে উলি্লখিত সড়ক দুটির কাজ শেষ করা সম্ভব নয় এমন অনিশ্চয়তার কথা এলাকার জনসাধারণ থেকে শুরু করে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দুটির মধ্যে বানিয়াচং-নবীগঞ্জ সড়কটি স্বাধীনতা উত্তরকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল এমএ রব'র নামে নামকরণ করে কাজ শুরু করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এ সড়কটির কাজ থমকে যায়। গত ৪ দলীয় ঐক্যজোট সরকারের আমলে খেলাফত মজলিসের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী সড়কটির কাজ পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তার প্রচেষ্টায় নবীগঞ্জের দিক থেকে কাগাপাশা পর্যন্ত পাকা এবং বানিয়াচংয়ের দিক থেকে মাটি ভরাটের কাজ করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে মহাজোট সরকার ক্ষতাসীন হওয়ার পর এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান আরও জোর তৎপরতা শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি একনেকে সড়কটির জন্য ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করাতে সক্ষম হন। এ বরাদ্দের পর সড়কের দুই কিলোমিটার পাকা হয়েছে ও কাগাপাশা খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু টাকা ছাড় না হওয়ায় শুঁটকি নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে টাকা ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং ছাড় হলেও এ সরকারের মেয়াদে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, শাল্লাসহ হাওর অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সুগম হত বলে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এসব এলাকার জনসাধারণ এ সড়ক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে আজমিরীগঞ্জ, শাল্লাসহ -এর আশপাশের এলাকার জনসাধারণ স্বাধীনতার পর থেকেই জেলা শহর হবিগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য হবিগঞ্জ-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়ক বাস্তবায়নের দাবি করে আসছেন। এক সময় হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বাস্তবায়নের দাবি উঠে। এ ব্যাপারে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়ক পাকাকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করার পর সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে তার মৃত্যু হয়। মরহুম শরীফ উদ্দিন আহমেদের নামফলক লাগিয়ে সড়কে মাটি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ করা হয়। ৪ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় আসলে সড়কটির কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরে সাংবাদিক আফসার আহমেদ রূপক বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ শরীফ উদ্দিন সড়কের কাজ পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পাকাকরণ হয়। বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ সড়কটির জন্য ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করাতে সক্ষম হন। এরমধ্যে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ কিলোমিটার পাকাকরণ ও ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সড়কের কুন্ডুরপাড়, বড় ঝিংরি ও ছোট ঝিংরি নামক স্থানে ৩টি ব্রিজের কাজ এগিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি লিটনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এসব ব্রিজের একটির কাজ শেষ করতেই দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগবে। তাই বর্তমান সরকারের মেয়াদে সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে বানিয়াচং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মমিন জানান, ১১টির মতো ব্রিজ এবং কালভার্টই নির্মাণের বাকি আর পাকার কাজ তো বাকি আছেই, তাহলে কীভাবে এ সরকারের মেয়াদে শরীফ উদ্দিন সড়কের কাজ শেষ হবে?