News Section:

ভাটিপাড়ার হাঁস পরিবার

ভাটিপাড়া গ্রামের লোকজন হ্যাচারিতে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে এখন সাবলম্বী। এখানে হ্যাচারির সংখ্যা প্রায় শ’খানেক। প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক এসব হ্যাচারিতে কাজ করে থাকেন। শুধু তাই নয়, গৃহস্থালির পাশাপাশি এটা বাড়তি উপার্জনের মাধ্যম হওয়ায় গৃহবধূরা হয়েছেন উপকৃত। প্রতি বছর হ্যাচারিগুলো থেকে প্রায় ১৪ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে বিভিন্ন জেলার পোল্ট্রি খামার মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৮ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন হ্যাচারি মালিকরা। বানিয়াচং উপজেলার বলাকিপুর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের কৃষি কাজেই ছিল অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম। সময়ের বিবর্তনে এ গ্রামের বাসিন্দা রতীস, জয়কুমার, শুকলালের মতো উক্ত গ্রামের কতিপয় যুবক পল্লী উন্নয়ন সমবায়ের মাধ্যমে ডিম থেকে হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর প্রশিক্ষণ নেন। স্বল্প পুঁজি, মনোবল, দক্ষতা ও পরিশ্রমকে সঙ্গী করে ছোট পরিসরে নিজ গৃহেই তারা গড়ে তোলেন হ্যাচারি। প্রায় ১০ বছর আগে রথীস চন্দ্র দাশের গড়ে তোলা হ্যাচারি এখন বৃহৎ পরিসর লাভ করেছে। হ্যাচারি থেকে ফোটানো ১ দিনের হাঁসের বাচ্চা জেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, সিলেটেসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে থাকেন তিনি। প্রতিটি হ্যাচারিতে প্রতিদিন ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করে থাকে। উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শ্রমিকরা আরও জানায়, বাজার থেকে হাজার হিসেবে হাঁসের ডিম ক্রয় করা হয়। প্রতিটি ডিমের ক্রয় মূল্য ৭-৮ টাকা পর্যন্ত হয়। বাচ্চা ফোটাতে প্রয়োজন হয় লালরঙের সুতি কাপড়, হারিকেন, তুষ, বনের খড়। প্রথম ধাপে ৪০-৫০টি ডিম সালু কাপড়ে পেঁচিয়ে পুঁটলি আকারে একত্র করে খড়ের তৈরি খোপে রাখা হয়। ১৫ দিন পর্যন্ত প্রতিটি পুঁটলি ৩ ঘণ্টা পর পর একটি খোপ (তন্দুল রুটি বানানোর মতো স্থান) থেকে অন্য খোপে স্থানান্তর করা হয়, যাতে ডিমগুলো সঠিক মাত্রায় তাপ পায়। ১৫ দিন অতিবাহিত হলে ডিমগুলোকে পুঁটলি থেকে খুলে নির্ধারিত বিছানায় নেয়া হয়। ১২ দিন পরে বিছানায় থাকা ডিমগুলো থেকে ফুটে বাচ্চা বের হয়। এসব বাচ্চা প্রতি পিস ২০ টাকা দামে বিক্রি করা হয়। এসব কাজে আবহাওয়া পরিবর্তন, বর্ষা মওসুম, ডিমের গুণগত মান খারাপ হলে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকতে হয় হ্যাচারি মালিকদের। ভাটিপাড়া গ্রামটিতে এখন অভাব কমে যাওয়ায় ১০ বছরের মধ্যে সেখানে শিক্ষিতের হার বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে পাকাঘর। আর্থিক সচ্ছলতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ভাটিপাড়া গ্রামে কোন দাঙ্গাহাঙ্গামা হয় না। নেই কোন মামলা মোকাদ্দমাও।